পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১৩০ তলা ভবন নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক নিলাম ডেকেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আগামী ১০ মে এ নিলাম হবে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাজউক। এতে একরপ্রতি জমির ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।
রাজউকের চেয়ারম্যান জি এম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ উচ্চতার এ ভবন নির্মাণের জন্য আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল। তবে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতা এড়াতে এই নিলাম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিলামে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও অংশ নেবে।
রাজউকের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভবনটি নির্মাণের জন্য এর মধ্যেই পূর্বাচলের ১৯ নম্বর সেক্টরে সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা সিবিডি অংশে ৬০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিলামপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রকল্প এলাকার প্রযুক্তিগত সমীক্ষার (টেকনিক্যাল স্টাডি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন বিভাগকে। এর আইনগত দিকগুলো দেখভাল করছেন আইনজীবী তানজীব উল আলম।
তানজীব উল আলম এই নিলামের বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত রাজউক আবাসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্লটের মূল্য নিজেরাই নির্ধারণ করে থাকে। তবে বাণিজ্যিক প্লটের ক্ষেত্রে নিলামের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দরদাতাকে জায়গা হস্তান্তর করা হয়। এর আগে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব নিলামে অংশ নিলেও এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এর প্রস্তুতি ও ডকুমেন্টেশনের কাজেও কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।
তানজীব উল আলম আরও বলেন, ৬০ একর জায়গায় সুউচ্চ ভবনটি ছাড়াও এটিকে ঘিরে আরও কিছু ছোট-বড় ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা থাকবে। নিলামের আগে নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নকশা জমা দিতে হবে।
নিলামের মাধ্যমে ভবন নির্মাণের দায়িত্ব অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলেও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এর সার্বক্ষণিক তদারকিতে থাকবে রাজউক। এর জন্য রাজউকের পক্ষ থেকে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উজ্জ্বল মল্লিককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এই ভবনটি নির্মাণের জন্য পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যানেও খানিকটা সংশোধন আনতে হচ্ছে। নির্মিতব্য ভবনটির উচ্চতা দাঁড়াবে দুই হাজার ফুটের বেশি। এ ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্রের জন্য আমরা একটা চিঠিও দিয়েছি।’
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্মাণপ্রতিষ্ঠান কেপিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কালী প্রদীপ চৌধুরী ভবনটি নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে কেপিসি গ্রুপের পক্ষে অর্থমন্ত্রী ১০০ একর জায়গার ওপর মূল ভবনসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাগুলো নির্মাণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় নভেম্বর মাসে পূর্বাচলের সিবিডি অংশে ৬০ একর জায়গা দিতে সম্মত হয়।
রাজউকের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনটিতে আন্তর্জাতিক কনভেনশন, এক্সিবিশন সেন্টারসহ থাকবে হোটেল, থিয়েটার ও শপিং মল। এটিকে ঘিরে তৈরি হবে আরও কয়েকটি ছোট-বড় ভবন এবং অনেক নান্দনিক স্থাপনা। উচ্চতার দিক থেকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনটি হচ্ছে দুবাইয়ে অবস্থিত ১৬৫ তলার বুর্জ আল খলিফা। পূর্বাচলে এ ভবনটি নির্মিত হলে তা হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতার। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।